আমরা সকলেই জানি দুধ একটা পুষ্টিকর খাবার ,এবং অনেক স্বাস্থ্যকরী একটি উপাদান এটি আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু খুব সহজেই এটিকে আরও বেশি স্বাস্থ্যকর করে তোলা যেতে পারে  তা  হয়তো জানেন না অনেকেই।

আজ আমরা দেখবো দুধ ও হলুদের উপকারিতা

অনেক যুগ আগে থেকেই হলুদ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আর শুধুমাত্র দুধের সঙ্গে উপকারি এ উপাদানটি মিশিয়ে নিয়ে পেতে পারেন দুধ ও হলুদের উপকারিতা এক সঙ্গেই।  এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং মৌসুমি ঠাণ্ডা-জ্বর দূর করতেও অনেক উপকারি হতে পারে।

দুধ হলুদ পান করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

* সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা উপশমে হলুদ মেশানো দুধ উপকারী। সর্দি-কাশি ও ফ্লু থেকে নিরাপদ থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হলুদ-দুধ পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

* শরীরের বাইরের বা অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো আঘাত থাকলে, হলুদ দুধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাময়ে সহায়তা করে। কারণ এটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে দেয় না।

* মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এবং ভালো ঘুমের জন্য হলুদ-দুধ সহায়ক। রাতে যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে হলুদের দুধ পান তাদের জন্য খুব উপকারী।

* হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে হলুদ-দুধ। দুধে হলুদ মেশানোর কারণে তাতে থাকা কারকিউমিন রক্তনালীর আস্তরণের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হিসেবেও পরিচিত। আর সঠিক এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হলুদ-দুধ তৈরির উপায়

অনেকেই হলুদ-দুধ বানানোর সময় একটি পাত্রে দুধের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে গরম করে পান করেন। কিন্তু এভাবে হলুদ-দুধ তৈরি করা হলে তাতে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায় না। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন মুনমুন গানেরিওয়াল নামের একজন পুষ্টিবিদ। একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি হলুদ-দুধ তৈরির সঠিক উপায় সম্পর্কে জানিয়েছেন

 

একটি পাত্র চুলায় বসান, তাতে কিছুটা ঘি দিন। এবার এতে হলুদের গুঁড়া দিন। অল্প আঁচে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। এরপর এতে এক চিমটি গোলমরিচ, জায়ফল গুঁড়া এবং দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে নিন। গ্যাস বন্ধ করে এক কাপ গরম দুধ যোগ করুন এবং স্বাদ অনুযায়ী চিনি দিয়ে পান করুন।

 

পুষ্টিবিদ মুনমুন গানেরিওয়ালের মতে, হলুদের গুঁড়া কখনোই হলুদের মতো কার্যকরী নয়, কারণ বাজারে পাওয়া হলুদের গুঁড়া ভেজাল হতে পারে। হলুদ-দুধে ঘি ব্যবহার করলে হলুদের সক্রিয় যৌগগুলো ঘিতে ভালোভাবে শোষিত হয়। সেই দুধ সম্পূর্ণ পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। হলুদ-দুধে গোলমরিচ যোগ করা হলে হলুদে পাওয়া কারকিউমিনের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

 

হেলথ লাইনের প্রতিবেদনে হলুদ-দুধ তৈরির আরেকটি উপায় দেখা গেছে। এটিও স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। হলুদ-দুধ তৈরির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে- ১/২ ইঞ্চি আদা কুচি করে কাটা, ১/২ টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া অথবা ১ ইঞ্চি হলুদ টুকরো, ১ কাপ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু।

 

একটি পাত্রে মধু ব্যতীত বাকি উপকরণগুলো প্রায় ২০ মিনিট চুলায় অল্প আঁচে ফুটান। এরপর একটি কাপের মধ্যে ঢেলে ১৫ মিনিট পর তাতে মধু দিয়ে পান করুন স্বাস্থ্যকর হলুদ-দুধ।

(Visited 4 times, 1 visits today)

Thank you for reading!

আমরা সকলেই জানি দুধ একটা পুষ্টিকর খাবার ,এবং অনেক স্বাস্থ্যকরী একটি উপাদান এটি আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু খুব সহজেই এটিকে আরও বেশি স্বাস্থ্যকর করে তোলা যেতে পারে  তা  হয়তো জানেন না অনেকেই।

আজ আমরা দেখবো দুধ ও হলুদের উপকারিতা

অনেক যুগ আগে থেকেই হলুদ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আর শুধুমাত্র দুধের সঙ্গে উপকারি এ উপাদানটি মিশিয়ে নিয়ে পেতে পারেন দুধ ও হলুদের উপকারিতা এক সঙ্গেই।  এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং মৌসুমি ঠাণ্ডা-জ্বর দূর করতেও অনেক উপকারি হতে পারে।

দুধ হলুদ পান করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

* সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা উপশমে হলুদ মেশানো দুধ উপকারী। সর্দি-কাশি ও ফ্লু থেকে নিরাপদ থাকতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হলুদ-দুধ পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

* শরীরের বাইরের বা অভ্যন্তরীণ অংশে কোনো আঘাত থাকলে, হলুদ দুধ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাময়ে সহায়তা করে। কারণ এটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে দেয় না।

* মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে, স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এবং ভালো ঘুমের জন্য হলুদ-দুধ সহায়ক। রাতে যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে হলুদের দুধ পান তাদের জন্য খুব উপকারী।

* হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে হলুদ-দুধ। দুধে হলুদ মেশানোর কারণে তাতে থাকা কারকিউমিন রক্তনালীর আস্তরণের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হিসেবেও পরিচিত। আর সঠিক এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হলুদ-দুধ তৈরির উপায়

অনেকেই হলুদ-দুধ বানানোর সময় একটি পাত্রে দুধের সঙ্গে হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে গরম করে পান করেন। কিন্তু এভাবে হলুদ-দুধ তৈরি করা হলে তাতে পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া যায় না। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন মুনমুন গানেরিওয়াল নামের একজন পুষ্টিবিদ। একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি হলুদ-দুধ তৈরির সঠিক উপায় সম্পর্কে জানিয়েছেন

 

একটি পাত্র চুলায় বসান, তাতে কিছুটা ঘি দিন। এবার এতে হলুদের গুঁড়া দিন। অল্প আঁচে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। এরপর এতে এক চিমটি গোলমরিচ, জায়ফল গুঁড়া এবং দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে নিন। গ্যাস বন্ধ করে এক কাপ গরম দুধ যোগ করুন এবং স্বাদ অনুযায়ী চিনি দিয়ে পান করুন।

 

পুষ্টিবিদ মুনমুন গানেরিওয়ালের মতে, হলুদের গুঁড়া কখনোই হলুদের মতো কার্যকরী নয়, কারণ বাজারে পাওয়া হলুদের গুঁড়া ভেজাল হতে পারে। হলুদ-দুধে ঘি ব্যবহার করলে হলুদের সক্রিয় যৌগগুলো ঘিতে ভালোভাবে শোষিত হয়। সেই দুধ সম্পূর্ণ পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। হলুদ-দুধে গোলমরিচ যোগ করা হলে হলুদে পাওয়া কারকিউমিনের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

 

হেলথ লাইনের প্রতিবেদনে হলুদ-দুধ তৈরির আরেকটি উপায় দেখা গেছে। এটিও স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। হলুদ-দুধ তৈরির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে- ১/২ ইঞ্চি আদা কুচি করে কাটা, ১/২ টেবিল চামচ হলুদের গুঁড়া অথবা ১ ইঞ্চি হলুদ টুকরো, ১ কাপ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু।

 

একটি পাত্রে মধু ব্যতীত বাকি উপকরণগুলো প্রায় ২০ মিনিট চুলায় অল্প আঁচে ফুটান। এরপর একটি কাপের মধ্যে ঢেলে ১৫ মিনিট পর তাতে মধু দিয়ে পান করুন স্বাস্থ্যকর হলুদ-দুধ।

(Visited 4 times, 1 visits today)

Thank you for reading!